Business is booming.

পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ধামাকাকে ২০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে আল্টিমেটাম

0

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে ১০ দিনে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ধামাকা শপিং ডটকম পার করেছে ১৬০ দিন। এমন অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটিতে পণ্য সরবরাহকারী সাড়ে ছয়শ ব্যবসায়ী।

ফলে পণ্য সরবরাহ বাবদ প্রায় ২০০ কোটি টাকা ফেরত দিতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা শপিং ডটকমের কর্তৃপক্ষকে পাঁচদিন সময় বেঁধে দিয়েছেন বিক্রেতারা। এর মধ্যে কোনো পদক্ষেপ না নিলে ধামাকার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ধামাকা শপিং ডটকমের সঙ্গে লেনদেন বিষয়ে সৃষ্ট জটিলতার সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের দাবি, পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করছে ধামাকার মালিকপক্ষ। পরে, এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টার পরও কল ধরেননি ধামাকার চার শীর্ষ কর্মকর্তার কেউই।
ধামাকা বিভিন্ন আইটেমের পণ্য বাজারদরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রির লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে তারা হাতিয়ে নিয়েছে ১০০ কোটি টাকার বেশি। আর সেখানে পণ্য সরবরাহ করে ২০০ কোটি টাকা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। এত কম দামে কিভাবে পণ্য বিক্রি করবে, এমন প্রশ্নে সরবরাহকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটি দেখিয়েছিল নিজস্ব সম্পত্তি থেকে ভর্তুকি দেওয়ার প্রলোভন।
কিন্তু ১০ দিনে পণ্যের দাম পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও পার হয়েছে ১৬০ দিন। এই অবস্থায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা বলছেন, টাকা ফেরত পাওয়ার আশাতেই আইনের আশ্রয় নেননি তারা।
শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ধামাকা সেলারস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, মহাখালীর আকুয়া টাওয়ারে ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড পরিচালিত ধামাকা শপিং ডটকমের সেলার বা মার্চেন্ট হিসেবে প্রায় ৬৫০ জন এসএমই উদ্যোক্তা, কোম্পানির চেয়ারম্যান, দেশের স্বনামধন্য অর্থোপেডিক চিকিৎসক, এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও জয়েন্ট কেয়ার কো-অর্ডিনেটর ডা.এম এম আলী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসিমউদ্দিন চিশতীর ওপর আস্থা রেখে এবং প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সিরাজুল ইসলাম রানা, প্রধান ব্যবসা কর্মকর্তা দেবকর দে শুভ, ডিএমডি নাজিমউদ্দিন আসিফ, পরিচালক অপারেশন সাফোয়ান আহমেদ, এজিএম ও হেড অব একাউন্টস আমিনুর রহমান, ক্যাটাগরি হেড ইমতিয়াজ হাসান গংদের অনুরোধে ও উপস্থিতিতে ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ধামাকা শপিং ডটকমের নির্দেশনা ও চুক্তি অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছিলো।
ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাথে পণ্য সরবরাহের জন্য সেলারদের সাথে চুক্তিতে স্পষ্ট লেখা ছিল যে, পণ্য সরবরাহের অর্ডারের কপি পাওয়ার পর পণ্য সরবরাহ করে বা তাদের নির্দেশিত গ্রাহকদের পণ্য দিয়ে বিল সাবমিট করার ১০ দিনের মধ্যে ধামাকা শপিং ডটকম পাওনা টাকা শোধ করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই ১০ দিন এখন ১৬০ দিনে পরিণত হয়েছে। এছাড়া এপ্রিল ২০২১ থেকে ধামাকার কাছে  গ্রাহকদের নিকট পণ্য সরবরাহ বাবদ সেলারদের পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
পাওনা টাকা উদ্ধারে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পরিচালন কর্মকর্তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করেও মালিকপক্ষের কারো সাথে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোন সাক্ষাৎ বা সমাধান পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করা হয়। এই অবস্থায় এত বিশাল অংকের টাকা আটকে যাওয়ায় নিঃস্ব হওয়ার আশঙ্কা করে, স্থগিত রাখা প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়ার দাবি জানায় তারা।
যদিও এসব অনিয়ম সম্পর্কে জানতে যোগাযোগ করতে গেলে দেখা যায় ধামাকার এমডি জসীম উদ্দিন চিশতি ব্যবহার করেন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসের একটি মুঠোফোন নম্বর। কিন্তু তিনিসহ প্রতিষ্ঠানটির চার শীর্ষ কর্মকর্তার কেউই রিসিভ করেননি ফোন কল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.