Business is booming.

করোনা মহামারি ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে

0

সম্প্রতি বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের পঞ্চম বার্ষিক গোলকিপার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।  সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মহামারি শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হারকে আশঙ্কাজনকভাবে পিছিয়ে দিয়েছে। ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষার ব্যবধান ও স্বাস্থ্যগত বৈষম্য বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, টিকা উৎপাদন আর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোয়, যেখানে অনেক মানুষ মহামারির নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে পারেনি।

গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মার্ক সুজম্যান জানান, বিশ্বের সব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে যে অগ্রগতি হচ্ছিল, তা  উল্লেখযোগ্যভাবে বিপরীত দিকে নিয়ে গেছে কোভিড। কোটি কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার পরিবর্তে আরও ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। অন্যান্য সূচকেও স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। পুষ্টি আর শিক্ষা নিশ্চিতে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহান থেকে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়, যা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে স্থবির করে। রেকর্ডসংখ্যক মানুষ বেকার হয়। ভাইরাসের বিস্তারকে ঠেকাতে অনেক দেশেই স্বাস্থ্য খাতের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। তবে টিকা দেওয়ার হার বিশ্বের অনেক দেশেই কম, সেই সঙ্গে নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলোর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৫০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই গেছে উচ্চ ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে।

গেটস ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন বলছে, গত দুই দশকে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করা বৈশ্বিক জনসংখ্যার হার ৩৭ থেকে ৯ শতাংশে নেমে এসেছিল। মাথাপিছু আয় যাদের ১ দশমিক ৯ ডলার, তাদের অতিদারিদ্র্যের তালিকায় রাখা হয়। দারিদ্র্য কমানোর প্রবণতা থমকে গেছে। করোনার প্রভাব অব্যাহত থাকায় সামনের বছরগুলোতেও এ হার খুব একটা উন্নত হবে না।

সুজম্যান বলেন, চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করা অধিকাংশ মানুষই নিম্ন আয়ের দেশগুলোর। কারণ, এ দেশগুলোর এখনো করোনার টিকা দেওয়ার হার ১ শতাংশের কাছাকাছি। আবার টিকা নিশ্চিত করা বেশির ভাগ ধনী দেশের মাথাপিছু আয় এ বছর করোনা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে। তবে, আগামী বছরও উন্নয়নশীল দেশগুলোর দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের মাথাপিছু আয় ২০১৯ সালের যা ছিল তার চেয়েও নিচের দিকে থাকবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.