Business is booming.

প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান আল আমিন প্রধান ও তার দুই সঙ্গী

0
অনলাইনে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান আল আমিন প্রধান ও তার দুই সঙ্গী। আল আমিনকে রোগী সাজিয়ে তার চিকিৎসার জন্য সঙ্গী হিসেবে এসপিসির প্রধান হিসাবরক্ষক ও আল আমিনের শ্যালক আদনান এবং মার্কেটিং ডিরেক্টর অর্জুন চ্যাটার্জি বেলজিয়াম যাওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এদিকে আল আমিন প্রধান ও তার স্ত্রী শারমিন আকতারের সব ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসপিসির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে এনবিআরের চেয়ারম্যানের কাছে গত সোমবার (৫ জুলাই) একটি  গোয়ান্দা সংস্থা চিঠি পাঠায়।
ওই চিঠির প্রেক্ষিতে হিসাব জব্দের উদ্যোগ নেয় এনবিআর। হিসাব জব্দ করতে এনবিআর বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সব ব্যাংকে চিঠি পাঠায়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি রাজস্ব স্বার্থ সংরক্ষণের স্বার্থে আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪-এর ১১৬ এ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ব্যাংকে পরিচালিত সব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর স্থগিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

একই সঙ্গে  ব্যাংকগুলোকে উক্ত চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তাদের ব্যাংক হিসাবের বর্তমান স্থিতির তথ্য জরুরি ভিত্তিতে এনবিআরে পাঠাতে বলা হয়েছে।
এর আগে আল আমিন প্রধান ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব করে বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি দেয় এনবিআর। এতে আল আমিন ও তার স্ত্রীর সঞ্চয় হিসাব, চলতি হিসাব, ঋণ হিসাব ও বিদেশি মুদ্রার হিসাব, ক্রেডিট কার্ড, ভল্ট, সঞ্চয়পত্র, ডিপোজিট স্কিম ও বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টসহ সব ধরনের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়।
জানা গেছে, গোয়ান্দা সংস্থা তদন্ত কাজ শুরু করলেই দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন আল আমিন প্রধান, তার শ্যালক ও এসপিসির প্রধান হিসাবরক্ষক আদনান ও মার্কেটিং ডিরেক্টর অর্জুন চ্যাটার্জি।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আল আমিন প্রধান ইতিমধ্যে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে কয়েক দফা সাজানো চিকিৎসা নিয়েছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। চিকিৎসার জন্য কাগজপত্র তৈরি করে বেলজিয়ামের ভিসা পেয়েছেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। এখন অঠাৎ করে বড় অসুস্থতা দেখিয়ে দেশ ছাড়বেন তারা।
এসপিসি সূত্রে জানা গেছে, আল আমিন প্রধান এ পর্যন্ত সব অর্থ বেলজিয়ামে পাঠিয়েছে। সেখানে বাড়িও কিনেছেন। দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে এসপিসির ম্যানেজমেন্টেও রদবদল আনা হয়েছে। প্রধান হিসাবরক্ষক থেকে আদনানকে সরিয়ে তার অপর শ্যালককে বসানো হয়েছে। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদে বসানো হয়েছে তুহিন আহমেদ নামের এক যুবলীগ নেতাকে।
জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর কলাবাগান এলাকা থেকে ই-কমার্সের নামে যাত্রা শুরু করে এমএলএম কোম্পানি এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস। তাদের বর্তমান অফিস বীর উত্তম সি, আর, দত্ত রোডের ১০৭ এফ হক টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে রয়েছে আল আমিন প্রধান। তিনি মূলত ডেসটিনি ২০০০-এর একজন উচ্চপর্যায়ের টিম লিডার ও প্রশিক্ষক ছিলেন। সেখানে তার যেসব সহযোগী ছিলেন তাদের নিয়েই ভিন্ন কৌশলে মাঠে নামেন আল আমিন।
সম্প্রতি সাংসদ ও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছাদূতের চুক্তি বাতিলের ঘোষণার পর কার্যক্রম গুটিয়ে যাচ্ছে এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেসের। ইতিমধ্যে তাদের বহু এজেন্ট কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। কোম্পানির এমডি ও সিইও আল আমিন প্রধানের দেখা মিলছে না।
এসব বিষয়ে জানার জন্য আল আমিন প্রধান ও অর্জুন চ্যাটার্জিকে সময় নিউজের পক্ষ থেকে শনিবার (১০ জুলাই) বেলা ১২টা ৪০ মিনিট থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও দুজনের কেউ ফোন ধরেননি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.