Take a fresh look at your lifestyle.

কোভিড- ১৯ আক্রান্ত: যেভাবে ২০ হাজারে পৌঁছালো বাংলাদেশ

0

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজারে পৌঁছালো বাংলাদেশ। দেশে করোনা শনাক্তের ৬৯তম দিনে শুক্রবার (১৫ মে) আক্রান্তের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ আজ শুক্রবার এক হাজার ২০২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় করোনা সন্দেহে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৫১২ জনের। নমুনা পরীক্ষায় গড়ে প্রতি আট জনের মধ্যে একজনের পজিটিভ পাওয়া গেছে। এ সময় করোনায় মারা গেছেন ২৯৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৮৮২ জন।

সরকারের রোগ তত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ ও মাদারীপুরে তিন জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় ইতোমধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি আক্রান্তের ঢাকা মহানগরীতে (দেশে মোট আক্রান্তের ৫৮.১১%)। আক্রান্তের হারও সব চেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে ৭৯ দশামিক ৫৪ শতাংশ এবং সব চেয়ে কম বরিশালে এক দশমিক ১০ শতাংশ।

আইইডিসিআর প্রতিদিন দুপুরে যে তালিকাটি প্রকাশ করে সেটা ওইদিন সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টার শনাক্তের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়। ফলে আইইডিসিআরের তালিকায় মূলত প্রকাশের দিন আট ঘণ্টা (দিবাগত রাত ১২টা থেকে সকাল ৮টা) এবং আগের দিনের ১৬ ঘণ্টার (সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা) তথ্য দেওয়া হয়। এতে করে আগের দিনের শনাক্ত রোগীই বেশি স্থান পায় ওই তালিকায়।

আইইডিসিআর সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ২১ জানুয়ারি থেকে কোভিড-১৯ এর স্ক্রিনিং এবং নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়। এর ৪৮ দিনের মাথায় গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়। ওইদিন তিন জনের দেহে করোনা পজিটিভ পাওয়া হয়। নমুনা পরীক্ষার শুরু থেকে ওইদিন পর্যন্ত মোট ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। প্রথম শনাক্তের এক মাসের মাথায় গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট করোনা সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়ায় ২১৮ জনে। এ সময় মোট মারা যান ২০ জন এবং সুস্থ হন ৩৩ জন। পরবর্তী মাস শেষে (৮ মে) সংক্রমণের সংখ্যা ৬০ গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ১৩৪ জনে। এ সময় পর্যন্ত মারা যান মোট ২০৬ জন।

করোনাভাইরাস আক্রান্তের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৮ মার্চ তিন জন শনাক্তের পর মোট আক্রান্ত দুই অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছাতে সময় লাগে ১০ দিন। অর্থাৎ ১৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে কোভিড-১৯ শনাক্ত হন ১০ জন। এই ১০ দিনের ছয় দিনে দেশে কোনও করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। দশকের অঙ্ক থেকে করোনা শনাক্তে শতকে পৌঁছাতে সময় লাগে আরও ২০ দিন। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা পজিটিভ ছিল ১২৩ জন।

এদিকে শনাক্তের সংখ্যা শতক থেকে হাজারে যেতে সময় লেগেছে মাত্র আট দিন। গত ১৪ এপ্রিল (দেশে আক্রান্তের ৩৮তম দিন) শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ১২ জনে। আর করোনা আক্রান্ত হাজার থেকে ১০ হাজারে পৌঁছতে সময় লাগে আরও ২০ দিন। আক্রান্তের ৫৮তম দিনে (৪ মে) মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ হাজার ১৪৩ জনে। এই সংখ্যা দ্বিগুণ হয় পরবর্তী ১২ দিনে। অর্থাৎ ১৫ মে বাংলাদেশে করোনা শনাক্তের সংখ্যা ২০ হাজারের কোটায় পৌঁছে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৫ জনে।

করোনায় মৃত্যু

এদিকে বাংলাদেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে প্রথম আক্রান্তের ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম করোনায় মারা যান একজন। প্রথম মৃত্যুর ১৯ দিনের মাথায় (আক্রান্তের ৩০তম দিন) ৬ এপ্রিল মৃত্যুর সংখ্যা দুই অঙ্কে (১২ জন) পৌঁছে। মৃতের সংখ্যা দুই অঙ্ক থেকে তিন অঙ্কে যেতে সময় লাগে আরও ১৪ দিন। ২০ এপ্রিল (আক্রান্তের ৪৪তম দিন) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০১ জনে। প্রথম মৃত্যু থেকে এই সংখ্যা একশ’তে পৌঁছাতে যেখানে ৩৪ দিন লেগেছে, সেখানে এই সংখ্যা দ্বিগুণ হতে সময় লাগে ১৮ দিন। গত ৮ মে (দেশে আক্রান্তের ৬২তম দিন) পর্যন্ত মোট মারা যান ২০৬ জন। ১৫ মে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৯৮ জন।

নমুনা পরীক্ষা

নমুনা পরীক্ষার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ৮ মার্চ ৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে প্রথম তিন জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। ২১ জানুয়ারি করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ৮ মার্চ পর্যন্ত ১২০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সর্বশেষ ১৫ মে পর্যন্ত মোট এক লাখ ৬০ হাজার ৫১২ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। নমুনা পরীক্ষার মধ্যে আক্রান্তের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। আর আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা

করোনা সংক্রমণ রোগীদের সুস্থ হওয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রথম দিকে সুস্থ হওয়ার হার খুবই কম ছিল। ওই সময় সুস্থ হওয়ার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যাই গড়ে বেশি ছিল। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুস্থ হওয়ার বিষয়ে ঘোষণার গাইডলাইনে পরিবর্তন আনলে সুস্থ রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। গত ৩ মে নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মোট এক হাজার ৬৩ জন সুস্থ হওয়ার কথা জানানো হয়। ২ মে পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছিল ১৭৭ জন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আগের গাইডলাইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুইবার নমুনা পরীক্ষায় উভয়ের ক্ষেত্রে নেগেটিভ ফলাফল এলেই ওই রোগীকে সুস্থ ঘোষণা করা হতো। কিন্তু নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, করোনা আক্রান্ত কোনও রোগীর নির্দিষ্ট সময়ের পরে করোনার কোনও ধরনের উপসর্গ না থাকলে তাকে সুস্থ ঘোষণা করা হবে এবং ওই রোগী পরবর্তীতে নমুনা পরীক্ষা করে তা নিশ্চিত হবেন। নতুন গাইড লাইন অনুযায়ী করোনায় সংক্রমণদের সুস্থতা ঘোষণা শুরুর পর থেকে প্রতিদিন গড়ে দুশো করে সুস্থ হচ্ছেন। ১৫ মে পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৮৮২ জন। সুস্থ হওয়ার হার ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.