Business is booming.

টাঙ্গাইলে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় গ্রেফতারকৃত ৪ আসামির স্বীকারোক্তি

0

টাঙ্গাইলে এসএসসি পরীক্ষার্থী খোদেজাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রথমে ধর্ষণ করা হয়। তারপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশটি যমুনা নদীতে ফেলে দিয়ে গুমের পরিকল্পনা করে আসামিরা। সে লক্ষ্যে নিহতের লাশটি বস্তাবন্দি করে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে যমুনার দিকে নিয়ে যায় তারা। কিন্তু যমুনা নদী এলাকায় লোকজন থাকায় তারা লাশটি ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। খোদেজা গোপালপুর উপজেলার জয়নগর এলাকার খোকন মণ্ডলের মেয়ে।

এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতারকৃত চার আসামি রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গত ৩ আগস্ট ভূঞাপুর উপজেলার বীর বরুয়া এলাকা থেকে খোদেজার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধারের পাঁচদিনের মাথায় ক্লু-লেস এই হত্যাকাণ্ডে রহস্য উদঘাটন করে পিবিআই। গ্রেফতার করে মূলহোতাসহ চার আসামিকে।

রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সিরাজ আমীন এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বেঙ্গুলা গ্রামের মৃত নগেন চন্দ্র দাসের ছেলে কৃষ্ণ চন্দ্র দাস (২৮), ধনবাড়ী উপজেলার ইসপিনজারপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে সৌরভ আহম্মেদ হৃদয় (২৩), গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মেহেদী হাসান টিটু (২৮) ও গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান (৩৭)।

এর আগে শনিবার রাতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

টাঙ্গাইল পিবিআই প্রধান মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, গত ৩ আগস্ট ভূঞাপুর উপজেলার বীর বরুয়া এলাকার ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের পাশ থেকে বস্তাবন্দি এক যুবতীর লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিবিআই। নিহতের পরিচয় না পাওয়ায় ভূঞাপুর উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের কবরস্থানে বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহতের লাশ শনাক্ত করা হয়। যোগাযোগ করা হয় নিহতের পরিবারের সাথে।

টাঙ্গাইল পিবিআই প্রধান বলেন, একপর্যায়ে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। আসামি কৃষ্ণ চন্দ্র দাস এ ঘটনার মূল হোতা। সে পেশায় নরসুন্দর। গ্রেফতারের পর খোদেজাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে সে জানায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খোদেজার সাথে তার প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। এ সময় কৃষ্ণ চন্দ্র দাস তার নাম পরিচয় গোপন রেখে সানি আহমেদ বলে পরিচয় দেয়। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে খোদেজাকে গত ২ আগস্ট ধনবাড়িতে একটি ভাড়া করা রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে। খোদেজা তখনই বুঝতে পারে কৃষ্ণ একজন হিন্দু। এ সময় খোজেদা চিৎকার শুরু করলে কৃষ্ণ তাকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এই কাজে অন্য আসামিরা তাকে সহায়তা করে। পরে তারা লাশটি বস্তাবন্দি করে গুম করতে অটোরিকশায় তুলে যমুনার দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু যমুনা নদী এলাকায় লোকজন থাকায় তারা লাশটি ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের পাশে ফেলে রেখে চলে যায়। রোববার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হলে বিচাররক তাদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.