Business is booming.

করোনাভাইরাসের টিকার জন্য কোটির বেশি নিবন্ধন করা হলেও প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন ৬৫% জনগণ

0

গত ২৭ জানুয়ারি সারাদেশে টিকার জন্য ‘সুরক্ষা’ ওয়েব প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন শুরু হলেও টিকার সরবরাহ সঙ্কটে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে নিবন্ধন কার্যক্রমও ২ মে বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর জুনে মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বিবেচনায় নিবন্ধন চালু করা হয়। তবে সাধারণের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ তখন বন্ধ ছিল।

বিভিন্ন উৎস থেকে কিছু টিকা হাতে পাওয়ার পর ৭ জুলাই দ্বিতীয় পর্যায়ে টিকার নিবন্ধন শুরু হয়। সেদিন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছিলেন ৭২ লাখ ৯৩ হাজার ২৫৮ জন।

দ্বিতীয় দফায় নিবন্ধন শুরুর পর গত দশ দিনেই নিবন্ধন করেছেন ২৯ লাখ ৫৮ হাজার ৯০৭ জন নাগরিক। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লাখ মানুষের নাম যোগ হয়েছে এ তালিকায়।

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কোভিশিল্ডের তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার জন্য গত বছরের শেষ দিকে চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। সেই টিকার প্রথম চালান পাওয়ার পর ৭ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে গণটিকাদান শুরু হয়।

কিন্তু দুই চালানে ৭০ লাখ ডোজ পাঠানোর পর ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশ। পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় ২৫ এপ্রিল দেশে প্রথম ডোজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। যারা প্রথম ডোজে কোভিশিল্ড নিয়েছেন, তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া যায়নি।

পরে অন্য উৎস থেকে টিকা আনার চেষ্টা শুরু করে সরকার। কোভিশিল্ড ছাড়াও মোট আটটি টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পায়।

কোভিশিল্ড, ফাইজার-বায়োএনকেট, মডার্না আর সিনোফার্ম- এই চার কোম্পানির মোট ১ কোটি ৫৯ লাখ ৬২০ ডোজ টিকা বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত হাতে পেয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৩০ হাজার ১৩১ ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।

এর মধ্যে ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৩৩ জন কোভিশিল্ডের প্রথম ডোজ পেয়েছেন। আর ৪৬ হাজার ৯৮১ জন ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকার, ৬ লাখ ৫১ হাজার ৫৪৯ জন সিনোফার্মের টিকার এবং ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭১ জন মডার্নার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ।

যারা কোভিশিল্ডের টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ৭৩৮ জন। আর সিনোফার্মের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ হাজার ২৫৯ জন।

সব মিলিয়ে মোট ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ১৩৪ জন করোনাভাইরাসের টিকার অন্তত এক ডোজ পেয়েছেন, যা দেশে মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশের কম।

গত জুন থেকে করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন দেশে প্রাধান্য বিস্তার করায় দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুতে নিত্যনতুন রেকর্ড হচ্ছে। এ অবস্থায় টিকা দান জোরদার করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা।

সরকারি হিসাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট ১০ লাখ ৭১ হাজার ৭৭৪ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৮ জনের।

Leave A Reply

Your email address will not be published.